Friday, March 21, 2014

দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজন

যারা ছবি উঠান তাদের স্বাভাবিক একটি প্রশ্ন, কিসের ছবি উঠাব? অনেকেই ছবি উঠানোর জন্য বনে-পাহাড়ে যান একথা ঠিক। সেখানে তারা যে দৃশ্য উঠানোর সুযোগ পান তা অন্যভাবে পাওয়ার সুযোগ নেই। কিন্তু আপনার চারিদিকে যাকিছু রয়েছে সেখান থেকেই পেতে পারেন দৃষ্টিনন্দন ছবি।
উদাহরনের এই ছবিটি দেখুন। দুটি পাতার ছবি উঠানোর জন্য নিশ্চয়ই আপনার বনে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। ছবিটি ঢাকা শহরে উঠানো।
কিংবা এই কৃষ্ণচুড়ার ডালটি। যে কোন ফুলগাছেই আপনি পেতে পারেন এমন একটি অংশ।

কিংবা কাছ থেকে ওঠানো এই মাকড়সার দল।
কিংবা ঘরের দেয়ালে সাধারন টিকটিকি।
ভাল ছবির জন্য আপনার দৃষ্টিভঙ্গিই যথেষ্ঠ। ক্যামেরার দৃষ্টিতে দেখা অভ্যেস করুন, সাধারন বিষয়কেও অসাধারনভাবে ছবিতে ধরে রাখা সম্ভব হবে।

মুভমেন্ট ফটোগ্রাফি

ছবি উঠানোর সময় হাত এবং ক্যামেরা স্থির রাখবেন, সম্ভব হলে ট্রাইপড ব্যবহার করবেন অথবা কোথাও ঠেস দিয়ে দাড়াবেন, বেশি সাটার স্পিড ব্যবহার করবেন, ইমেজ ষ্ট্যাবিলাইজেশন ব্যবহার করবেন এসব কথা শুনেই আপনি অভ্যস্থ। এর বিপরীত দিক কি কখনো ভেবে দেখেছেন। ছবি উঠানোর সময় ইচ্ছে করে ক্যামেরা নাড়ানো। ফটোগ্রাফিতে এর নাম মুভমেন্ট ফটোগ্রাফি।
মুল বিষয় হচ্ছে সাটার স্পিড কম ব্যবহার করবেন যেন বেশি সময় ধরে এক্সপোজার পাওয়া যায়। যতক্ষন সাটার খোলা থাকবে সেই সময়ে ক্যামেরা নাড়াবেন। আলোর যায়গাগুলি একধরনের গতিশীল আলোকপথ তৈরী করবে।
একেবারে অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাজটি না করে একেই নিজের পছন্দমত কাজে ব্যবহার করতে পারেন। যেমন জুম ইফেক্ট।
Aperture Priority  মোড সিলেক্ট করুন। এপারচার ২২ সেট করুন। যে বিষয়ের ছবি উঠাবেন সেখানে ফোকাস করুন। সাটার রিলিজ চেপে ছবি উঠানোর সময় দ্রুত জুম কম বা বেশি করুন। আলোকরশ্মির ইফেক্ট পাবেন এরফলে।
অথবা ব্যবহার করতে পারেন রোটেশন ইফেক্ট। ছবি উঠানোর সময় ক্যামেরা বৃত্তকারে ঘুরান, অথবা আপনি নিজেই ক্যামেরা সহ ঘুরুন। হয়ত স্পষ্ট বিষয় পাবেন না কিংন্তু রঙের বৈচিত্র থাকলে মজাদার কিছু পাবেন। উদাহরনের ছবিটি মাথার ওপর বড়বড় গাছের।
অথবা বাগানে ফুলের ছবি উঠানোর সময় সাটার স্পিড একেবারে কমিয়ে ইচ্ছেমত ক্যামেরা ঘুরান। একেবারে ভিন্ন ধরনের ছবি পাবেন। ক্যামেরা ওপরে নিচে করে আরেকধরনের ইফেক্ট পেতে পারেন।
জুম ইফেক্ট এর জন্য এসএলআর অথবা জুম-রিং ব্যবহার করা যায় এমন ক্যামেরা প্রয়োজন হবে। অন্য ইফেক্টগুলি ব্যবহার করা যাবে যে কোন ক্যামেরায়।

সঠিক রঙের জন্য হোয়াইট ব্যালান্স ঠিক করুন

ছবি উঠানোর সময় এপারচার, সাটার স্পিড, আইএসও ইত্যাদি বিষয় এতটাই গুরুত্বপুর্ন যে হোয়াইট ব্যালান্স বিষয়টি অনেকসময়ই গুরুত্ব পায় না। ফল হিসেবে ছবিতে পাওয়া যায় কখনো নিলচে, লালচে বা সবজেটে ভাব। হোয়াইট ব্যালান্স ঠিক করে এই সমস্যা দুর করা যায় সহজেই।
একচু জেনে নেয়া যাক হোয়াইট ব্যালান্স বিষয়টি কি ?
ছবিতে সবচেয়ে আলোকিত এবং সবচেয়ে অন্ধকার দুটি বিন্দুর কথা চিন্তা করুন। সবচেয়ে আলোকিত অংশের রং হওয়ার কথা একেবারে সাদা, সবচেয়ে অন্ধকার অংশ হওয়ার কথা একেবারে কালো। সাদাকে পুরোপুরি সাদা দেখানোর ব্যবস্থাকে বলে হোয়াইট ব্যালান্স।
এর পেছনে রয়েছে কিছুটা আলো তত্ত্ব। প্রতিটি রঙের রয়েছে সাদার তুলনায় নিজস্ব বৈশিষ্ট। একে পরিমাপ করা হয় কেলভিন তাপমাত্রার স্কেলে এবং নাম কালার টেম্পারেচার। আলট্রাভায়োলেট শর্ট ওয়েব লেন্থের কালার টেম্পারেচার বেশি, যেমন সাদা হচ্ছে ৫৬০০ ডিগ্রী কেরভিন, অন্যদিকে ইনফ্রারেড লং ওয়েভের টেম্পারেচার কম, ২০০০ ডিগ্রী কেলভিন। বেগুলি থেকে লালের দিকে মাঝের রংগুলি ক্রমাম্বয়ে নীল, সবুজ, হলুদ, কমলা ইত্যাদি। বৈজ্ঞানিভাবে কালার টেম্পারেচার হচ্ছে কার্বনকে উত্তপ্ত করলে বিভিন্ন কেলভিন টেম্পারেচারে রঙের যে পরিবর্তন হয় সেটা। যেমন ২০০০ ডিগ্রী তাপমাত্রায় কার্বনের রং লাল। ৫৬০০ ডিগ্রীতে একেবারে সাদা।
সুর্যের উদাহরন বিবেচনায় আনতে পারেন। দুপুরে যখন কালার টেম্পারেচার সবচেয়ে বেশি তখন আমরা সাদা আলো পাই, অন্যদিকে সুর্যোদয় কিংবা সুর্যাস্তের সময় কৌনিক অবস্থানের কারনে কালার টেম্পারেচার কমে যায়, আমরা পাই লালচে এবং হলদেটে সোনালী আলো।
আমরা চোখে দেখার সময় খুব সহজে চোখ তারসাথে মানিয়ে নিতে পারে। কিন্তু ক্যামেরা নিজে থেকে সেটা করে না। ফল হিসেবে সুর্যাস্তের ছবি উঠানোর সময় যদি দুপুরের কালার টেম্পারেচারের হোয়াইট ব্যালান্স সেটিং ব্যবহার করা হয় সেখানে লালচে-হলুদ রং থাকবে না। আপনিও সঠিক রং পাবেন না। হোয়াই ব্যালান্স সেটিং এর দিকে দৃষ্টি দিয়ে আপনি পেতে পারেন নিখুত রঙের ছবি।
অধিকাংশ ক্যামেরায় হোয়াইট ব্যালান্স সেটিং এর জন্য কয়েকটি অপশন থাকে। এদের একটি অবশ্যই অটো যেখানে ক্যামেরা নিজেই আলো বিশ্লেষন করে ঠিক করে নেয় কোন ধরনের হোয়াইট ব্যালান্স ব্যবহার করবে। পেশাদার ফটোগ্রাফাররা এটা ব্যবহার করেন সবচেয়ে কম।
এছাড়া থাকে সরাসরি সুর্যের আলো, মেঘলা দিন, ছায়া, মোমের আলো, ফ্লুরোসেন্ট টিউবের আলো, সাধারন আলো, ফ্লাশ ইত্যাদি নাম। যখন যে আলোয় ছবি উঠাতে চান তখন সেটা সিলেক্ট করে নিতে পারেন।
অভিজ্ঞ ফটোগ্রাফাররা এতে সন্তুষ্ট নন (সেকারনেই তাদের ছবি ভাল হয়)। তাদের জন্য কিছু ক্যামেরায় রয়েছে ডিগ্রী কেলভিন মান দেখে হোয়াইট ব্যালান্স ঠিক করা। এজন্য আপনাকে জানতে হবে কোন আলোর কালার টেম্পারেচার মান কত। কাজটি কঠিন।
অনেক ক্যামেরায় যেখানে ছবি উঠাচ্ছেন সেখানকার কালার টেম্পারেচার যাচাই করার ব্যবস্থা থাকে। একমাত্র এভাবেই একেবারে সঠিক কালার টেম্পারেচার ব্যবহার করা সম্ভব।
যেমন নাইকন ডি৯০ ক্যামেরাকে উদাহরন হিসেবে দেখুন,
.          মেনু থেকে Preset Manual সিলেক্ট করুন
.          যেখানে ছবি উঠাবেন সেই পরিস্থিতিতে একটি সাদা কাগজ (অথবা একেবারে সাদা অন্যকিছু) রাখুন
.          Aparture Priority মোডে যান
.          হোয়াইট ব্যালান্স বাটন চেপে ধরে কমান্ড ডায়াল ঘুরাতে থাকুন যতক্ষন না প্রিসেট দেখা যায়।
.          হোয়াইট ব্যালান্স বাটন ছেড়ে দিন, এরপর আবারও চেয়ে ২ সেকেন্ড ধরে রাখুন। ডিসপ্লেতে প্রিসেট আইকণ ব্লিংক করতে থাকবে।
.          পুরো স্ক্রিনে সাদা কাগজটি ফোকাস করুন।
.          সাটার রিলিজ বাটন চাপ দিন।

কোন ছবি উঠবে না কিন্তু ক্যামেরা সেই পরিস্থিতির  হোয়াইট ব্যালান্স এর জন্য মান রেকর্ড করবে। সঠিক মান রেকর্ড হলে ডিসপ্লেতে Good লেখা পাবেন।
পরিবেশ কিংবা আলোর পরিবর্তনের সাথেসাথে এই মানও পরিবর্তিত হতে পারে। কাজেই যায়গা বা সময় পরিবর্তনের পর আপনাকে পুনরায় এই সেটিং ঠিক করে নিতে হতে পারে। বড়জোর কয়েক সেকেন্ড সময় লাগবে এটা করতে। আপনার ক্যামেরায় যদি এই ব্যবস্থা থাকে তাহলে সেটা ব্যবহার করুন।

*** অন্য ক্যামেরার জন্য পদ্ধতিতে কিছুটা ভিন্নতা থাকতে পারে। সেটা জানার জন্য আপনার ক্যামেরার ম্যানুয়েল দেখুন।

কি দেখে কিনবেন

আপনাকে যদি ক্যামেরা (অথবা ভিডিও ক্যামেরা) নিয়ে বাইরে যেতে হয় তাহলে প্রয়োজনীয় জিনিষগুলির একটি হচ্ছে ব্যাগ কিংবা কেস। ক্যামেরা এবং অন্যান্য সবকিছুকে শুধু সহজে বহন করাই না, বরং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে ক্যামেরাকে রক্ষা করে এগুলি। এমনকি হঠাত আসা বৃষ্টি থেকেও।
আপনার প্রয়োজনীয় ব্যাগ বাছাই করার জন্য যে বিষয়গুলির দিকে দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন তা হচ্ছে;
ব্যাগের মাপ
সবচেয়ে গুরুত্বপুর্ন বিষয় হচ্ছে যে আপনার ক্যামেরার মাপের সাথে ব্যাগ মানানসই কিনা। যদি কম্প্যাক্ট ক্যামেরা হয় তাহলে কোমড়ে ঝুলানো পাউচ থেকে শুরু করে ছোট আকারের সোল্ডার ব্যাগ যথেস্ট হতে পারে। যদি এসএলআর হয়, সাথে একাধিক লেন্স এবং ফ্লাশ থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই তাদের সবগুলির জন্য যায়গা আছে দেখে ব্যাগ পছন্দ করতে হবে। বডিসহ একটি লেন্স, ২টি লেন্স, ৩টি লেন্স ইত্যাদি নানাধরনের মাপে ব্যাগ তৈরী করা হয়। এর ওপর রয়েছে মডেলের বিষয়। এসএলআর ক্যামেরাগুলি ছোট, মাঝারী, বড় এই প্রধান তিনটি মাপের হয়। ব্রান্ড ভিত্তিক পার্থক্যও রয়েছে। আপনি নাইকন ক্যামেরার ব্যাগ কেনার সময় ক্যানন ক্যামেরার জন্য তৈরী ব্যবহার কিনবেন না এটাই স্বাভাবিক। কাজেই ব্যাগ কেনার আগে নির্দিস্ট মডেল এবং সাথে আনুসাঙ্গিক যাকিছু রয়েছে সেগুলি হিসেব করে ব্যাগ খোজ করুন।
নির্দিষ্টভাবে ক্যামেরার জন্য তৈরী ব্যাগই ব্যবহার করুন। সেখানে ক্যামেরা এবং লেন্সের জন্য সঠিক মাপের যায়গা করা থাকে।
ব্যাগের ধরন
ক্যামেরা ব্যাগের জন্য কয়েকটি ধরন প্রচলিত, হোলষ্টার, স্লিং, সোল্ডার, ব্যাকপ্যাক, রোলিং ইত্যাদি। একেবারে ছোটর জন্য হোলষ্টার, ছোট থেকে মাঝারী ক্যামেরার জন্য সোল্ডার, ছোট-মাঝারী থেকে বড়র জন্য  ব্যাকপ্যাক এবং একেবারে বড় ব্যাগ হিসেবে রোলিং ব্যাগ ব্যবহার করা হয়। আপনি যেধরনের ব্যাগ ব্যবহারে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেন সেধরনের ব্যাগ বেছে নিন। সাধারনত যারা বন-জঙ্গল-পাহাড়ে ছবি উঠাতে যান তারা পছন্দ করেন সোল্ডার অথবা ব্যাকপ্যাক।
সফট ব্যাগগুলি এধরনের কাজের জন্য বেশি উপযোগি। আর গাড়িতে চলাফেরা করলে কেস (বাক্সের মত) ব্যবহার বেশি নিরাপদ। আঘাত পেলেও ক্যামেরার ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না।
কি দিয়ে, কিভাবে তৈরী
ব্যাগ কত ভালভাবে তৈরী তার ওপর নির্ভর করে সেটা ক্যামেরাকে কতটা নিরাপত্তা দেবে। ভাল ব্যাগগুলি দীর্ঘস্থায়ী। অনেক ব্যাগই ওয়াটারপ্রুফ। বৃষ্টির ঝাপটা এলেও ভেতরে পানি ঢোকে না। ব্যাগটি কোন ধরনের পদার্থ দিয়ে তৈরী সেটা দেখে নেয়া জরুরী।
যারা প্রকৃতির ছবি উঠান তারা পরিবেশবান্ধব জিনিষপত্র ব্যবহার করতে পছন্দ করেন। যেমন ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক তাদের তৈরী ব্যাগ সম্পর্কে বলে সেগুলি পুরোপুরি পরিবেশবান্ধব। তাতে প্লাষ্টিক জাতিয় কোনকিছু ব্যবহার করা হয় না। ক্যানভাস কাপড় এবং মেটাল ব্যবহার করা হয়।
ব্যাগের দাম
দাম অবশ্যই একটি গুরুত্বপুর্ন বিষয়। ২ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে কমদামী ব্যাগ পাওয়া যায়, মাঝারী ব্যাগের জন্য ৩ থেকে ৬ হাজার টাকা খরচ হতে পারে। কেসের দাম আরো বেশি। কিন্তু আপনি যখন লক্ষ টাকার ক্যামেরা বহন করবেন তখন এখানেই বা খরচ কমাবেন কেন ? আপনার মুল্যবান ক্যামেরা রক্ষার জন্য খরচ কিছুটা বেশি হলেও ভাল ব্যাগ ব্যবহার করুন।
একেবারে কমদামে কিছু ব্যাগ পাওয়া যায় যেগুলি বাইরে থেকে মুল কোম্পানীর ব্যাগের মতই দেখায়। সেগুলি কেনার সময় ক্যামেরা, লেন্স ইত্যাদির জন্য প্যাডের ব্যবস্থা আছে কিনা, ক্যামেরা নড়াচড়া করবে কিনা এই বিষয়গুলি দেখে নিন।
ব্যাগ দেখতে কেমন
আপনি নিশ্চয়ই এমন ব্যাগ চান যা আপনার মনের মত সুন্দর। ব্যাগের ডিজাইন, রং ইত্যাদি ব্যাক্তিগত পছন্দের বিষয়। তারপরও, একজন ফটোগ্রাফার সুন্দর কিছু পছন্দ করবেন এটাই স্বাভাবিক। এদিকটাও গুরুত্ব দিয়ে দেখে নিন।  
ব্যাগ কার তৈরী
যদি সবকিছু ঠিক থাকে তাহলে অবশ্যই ব্যাগ কোন কোম্পানী তৈরী করেছে তাতে কিছু যায় আসে না। তাহলেও যারা ব্যাগ তৈরী করে খ্যাতিলাভ করেছে তাদের ওপর নির্ভর করা তুলনামুলক সহজ। কাজেই ব্যাগ কেনার সময় বিশ্বখ্যাত নাম যেমন lowepro, Kata, National Geographic, Think Tank, Domke, Crumpler, Tamrac, M-Rock, Billingham এদের প্রাধান্য দিতে পারেন।
ব্যাগ কেনার আগেই ইন্টারনেটে সেই ব্যাগ সম্পর্কে জেনে নিন। এজন্য www.cambags.com এর মত ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে পারেন।

ফোকাল লেন্থ, এঙ্গেল অব ভিউ এবং নানা ধরনের লেন্স

ক্যামেরা কিংবা ছবি উঠানোর কথা বললেই কিছু শব্দ শোনা যায়, ওয়াইড এঙ্গেল, টেলিফটো, ফোকাল লেন্থ ইত্যাদি। কিংবা লেন্সের ক্ষেত্রে বলা হয় অত মিলিমিটার। এই বিষয়গুলি ঠিক কি বুঝায়, ছবিতে এর কি প্রভাব পরে নতুন ফটোগ্রাফারদের কাছে অনেকটাই অশ্পষ্ট মনে হতে পারে। বিষয়টি স্পষ্ট করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
হয়ত লক্ষ করেছেন ডিজিটাল ক্যামেরার তুলনা করা হয় ৩৫মিলিমিটার ক্যামেরার সাথে। আগেকার দিনের ৩৫ মিলিমিটার ক্যামেরাকেই এখনও ষ্ট্যান্ডার্ড ধরে তারসাথে তুলনা করা হয়। যেমন উল্লেখ করা হল অমুক লেন্স ১৮-৮৫ মিমি, এরপরই উল্লেখ করা হয় ৩৫ মিমি এর তুলনায়।
খালিচোখে আমরা যেমন দেখি ছবিতে যদি ঠিক তেমনটি পেতে চাই তাকে বলতে পারি নরম্যাল লেন্স। হিসেব করে দেখা গেছে ৫০ থেকে ৫৫ মিমি পর্যন্ত লেন্সে এধরনের ছবি পাওয়া যায়। কাজেই লেন্সের হিসেবে এগুলি ষ্ট্যান্ডার্ড লেন্স নামে পরিচিত।
যদি এরথেকে কম ফোকাল লেন্থ হয় তাহলে সামনের দৃশ্য খালিচোখে যতটা দেখা যায় তারথেকে বেশি দেখা যাবে। লেন্স অনেক বেশি কৌনিক দৃশ্য ধারন করে, সেকারনে একে বলা হয় ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স। মুলত ৩৫ মিমি এর নিচের ফোকাল লেন্ধের লেন্সগুলি ওয়াইড এঙ্গেল নামে পরিচিত। এঙ্গেলের পরিমান যদি খুব বেশি হয় তাহলে সামনের দৃশ্য গোলাকার ধারন করে। অনেকটা মাছের চোখের মত বলে এর নাম ফিস-আই লেন্স।
আবার বিপরীতভাবে ফোকাল লেন্থ যদি বেশি হয় তাহলে সামনের দৃশ্যের জন্য কোন ছোট হয়ে আসে এবং নির্দিষ্ট অংশ দেখা যায়। একে ন্যারো এঙ্গেল লেন্স বলতে পারেন, তবে বাস্তবে একে বলা হয় লং ফোকাস লেন্স, কিংবা টেলিফটো লেন্স কিংবা জুম লেন্স।
নির্দিস্টভাবে লেন্সের যে ভাগগুলি রয়েছে তা হচ্ছে
ফিসআই লেন্স : ৬ থেকে ৮ মিমি। অন্তত ১৮০ ডিগ্রী পর্যন্ত ধারন করতে পারে। কখনো কখনো ২২০ ডিগ্রী পর্যন্ত (ক্যামেরার পেছন দিকে) ধারন করার মত লেন্সও রয়েছে।
ওয়াইড এঙ্গেল লেন্স : ১৮ থেকে ৩৫ মিমি পর্যন্ত। সাধারন কাজের জন্য এগুলি ব্যবহার করা হয়। এতে ডেপথ অব ফিল্ড বেশি পাওয়া যায়, ফলে ল্যান্ডস্কেপ, ইন্টেরিয়র, আর্কিটেকচার ইত্যাদি কাজের জন্য বেশি উপযোগি।
ষ্ট্যান্ডার্ড লেন্স : ৫০ মিমি। মানুষের চোখে দেখার কাছাকাছি বলে এর ব্যবহার সবচেয়ে বেশি। অনেক বেশি এপারচার ব্যবহার করা যায় বলে কম আলোতে ভাল ছবি পাওয়া যায়।
লং ফোকাস লেন্স : ৮০ থেকে ৪০০ মিমি। বিষয়কে অনেক বড় দেখা যায় বলে দুরের কোনকিছু ছবি উঠানোর জন্য বেশি উপযোগি। স্পষ্টভাবে দুরের কিছুর ছবি উঠানোর জন্য ব্যবহার করা হয়। দুরত্ব বাড়ার সাথেসাথে ডেপথ অব ফিল্ড কমে যায়।
সুপারজুম বা এক্সট্রিম লং ফোকাস লেন্স : ৪০০ মিমি এর ওপর লেন্সকে এই দলে ফেলা হয়। পাখি বা বন্য প্রানী এই ধরনের বিষয়ের জন্য বেশি উপযোগি। অনেকসময় একে টেলিফটো লেন্সও বলা হয়। সাধারনত এগুলি আকারে বড় এবং ওজন বেশি বলে ট্রাইপড ব্যবহার করতে হয়। ষ্টেডিয়ামে খেলার সময় সাংবাদিকরা এগুলি ব্যবহার করে দুর থেকে ছবি উঠান।
এর বাইরে কিছু বিশেষ ধরনের লেন্স রয়েছে। যেমন;
ম্যাক্রো লেন্স : মাছির চোখ কিংবা ঘাসের ছোট একটি ফুল কাছ থেকে উঠানোর জন্য বিশেষ ধরনের এই লেন্স ব্যবহার করা হয়। যদিও এর ফোকাল লেন্স ৫০ থেকে ২০০ মিমি, এতে বিশেষভাবে ফোকাস করার কারনে বিষয়কে অনেক বড় আকারে পাওয়া যায়। এক্সটেনশন টিউব নামে একধরনের এডাপটার ব্যবহার করে সাধারন লেন্সকে ম্যাক্রো লেন্স হিসেবে ব্যবহার করা যায়। অনেকে নিজেই এধরনের টিউব তৈরী করে নেন। মুলত ক্যামেরা থেকে মুল লেন্সকে কিছুটা দুরত্বে রেখে একাজ করা হয়।
জুম এডাপটার : কোন লেন্সের সর্বোচ্চ ফোকাল লেন্থকে আরো বাড়ানোর জন্য একধরনের এডাপটার ব্যবহার করা হয়। ২এক্স এডাপটার ব্যবহারের অর্থ লেন্সের আগের ফোকাল লেন্থকে দ্বিগুন করা। ক্যামেরা এবং লেন্সের মাঝখানে একে লাগানো হয়।

পোর্ট্রেট ফটোগ্রাফির জন্য গুরুত্বপুর্ন বিষয়গুলি

অধিকাংশ মানুষ সুন্দর বাগান, সমুদ্র, পাহাড় এসবের ছবি উঠাতে পছন্দ করেন। কিন্তু বাস্তব সত্য তো এটাই, সবচেয়ে প্রিয় ছবি হচ্ছে পরিচিত কারো পোর্ট্রেট। পরিবারের কোন সদস্য কিংবা বন্ধু। কিছু বিষয় লক্ষ্য করে করে আপনি অনায়াসে পেতে পারেন ভাল মানের পোর্ট্রেট।

ঠিক যায়গায় ছবি উঠান
সাধারনত পোর্টেট ফটোগ্রাফিতে মুল ব্যক্তির দিকে বেশি গুরুত্ব দেয়া হয়, ব্যাকগ্রাউন্ডের দিকে ততটা দৃষ্টি দেয়া হয় না। ভাল পোর্ট্রেটের জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড গুরুত্বপুর্ন। ব্যাকগ্রাউন্ডে বৈচিত্র যত কম থাকে তত ভাল। একটি ইটের দেয়াল, সবুজ মাঠ কিংবা একরঙা পর্দা এগুলি ভাল পোর্ট্রেট ইমেজ তৈরী করতে পারে। বিপরীতভাবে অগোছালো ব্যাকগ্রাউন্ড ছবির সামঞ্জস্য নষ্ট করে। অগোছালো গাছের ডাল, ঘরের ফার্নিচার ইত্যাদি কম্পোজিশনে সমস্যা তৈরী করতে পারে। ছবি উঠানোর আগে ব্যাকগ্রাউন্ড দেখে নিন। হয়ত সামান্য কয়েকপা সরে গেলেই আরো সুন্দর ব্যাকগ্রাউন্ড পেতে পারেন।
ঘরে উচুমানের আলোর ব্যবস্থা না থাকলে যতটা সম্ভব  বাইরে ছবি উঠান। রৌদ্রজ্জ্বল দিন হোক আর মেঘলা দিনই হোক, ঘরের সাধারন লাইটের আলো থেকে ভাল ফল পাওয়া যাবে।

ক্যামেরা সেটিং ঠিক রাখুন
ক্যামেরা পোর্ট্রেট মোড বলে একটি সেটিং রয়েছে। এই মোড ব্যবহার করুন। পোর্ট্রেট এর জন্য ডেপথ অব ফিল্ড, সাটার স্পিড, এপারচার ইত্যাদি যাকিছু প্রয়োজন ক্যামেরা ঠিক করে নিবে। অনেক ক্যামেরাতেই ফেস ডিটেকশন রয়েছে। ক্যামেরা নিজে থেকেই মুখের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ফোকাস করবে। এছাড়াও অনেক ক্যামেরায় স্মাইল ডিটেকশন রয়েছে যা শুধুমাত্র হাসার সময় ছবি উঠাবে, ব্লিংক ডিটেকশন চোখ বন্ধ আছে কিনা যাচাই করে ছবি উঠাবে।
ফ্লাশের দিকেও দৃষ্টি দিন। ফ্লাশের জন্য ফিল ফ্লাশ বলে সেটিং থাকার কথা। যদি আপনার ক্যামেরায় থাকে তাহলে সেটা ব্যবহার করুন। এই সেটিংএ ছবি উঠানোর আগেই আলো তৈরী হয়, ফলে রেড আই নামের লাল চোখের সমস্যা এড়ানো যায়।

আলো ঠিকভাবে ব্যবহার করুন
ব্যক্তির মুখে আলো কোনদিক থেকে কতটুকু আসছে লক্ষ্য করুন। যদি পিছনে উজ্জ্বল আলো থাকে এবং মুখের ওপর আলো কম থাকে তাহলে ভাল ছবি পাবেন না। বাইরে ছবি উঠানোর জন্য সকালে এবং সন্ধ্যার আগে পাওয়া যায়, যখন আলোর প্রখরতা কম থাকে। দিনের মাঝামাঝি সময় ছায়ায় ছবি উঠাতে চেষ্টা করুন। ছায়ায় ফ্লাশ ব্যবহার করে মুখে আলো ফেলে ভাল ফল পাওয়া যাবে।
ফ্লাশের আলো কমবেশি করার ব্যবস্থা থাকলে দুরত্ব অনুযায়ী সেটা ঠিক করে নিন।

ফ্রেম পুরন করুন
আপনি যতটুকু উঠাতে চান ঠিক ততটাই ফ্রেমের মধ্যে রাখুন। চারিদিকের অতিরিক্ত যায়গা বাদ দিন। প্রয়োজনে কাছে যান অথবা জুম লেন্স ব্যবহার করুন।

হাসিমুখের ছবি উঠান, স্বাভাবিক ভঙ্গির ছবি উঠান
সরাসরি ক্যামেরার দিকে না তাকিয়ে অন্যকিছুর দিকে তাকাতে বলুন এবং হাসিমুখ করতে বলুন। তাকে তৈরী হতে সময় দিন। যতটা সম্ভব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে ছবি উঠান। কখনো কখনো দাত বের করা হাসির চেয়ে চোখের দৃষ্টি কিংবা অন্য কোন অভিব্যক্তি উচুমানের ছবি পেতে সাহায্য করে।

প্যানোরামা

আপনি নিশ্চয়ই এমন ছবি দেখেছেন যেখানে বিস্তৃত প্রান্তরের ছবি রয়েছে। আপনি কোথাও দাড়িয়ে মাথা ঘুরিয়ে চারিদিকে দৃষ্টি দিলে যেমন দেখা যায় তেমন। ফটোগ্রাফির ভাষায় এটাই প্যানোরামা। অবশ্যই আপনি একবারে বামদিক, সামনের দিক এবং ডানদিকের ছবি উঠাতে পারেন না। এদেরকে পৃথক পৃথকভাবেই উঠানো হয়, তারপর জোড়া লাগানো হয় (stitch) ফটোশপের মত কোন সফটঅয়্যার দিয়ে। কুইটটাইম এর মত সফটঅয়্যার ব্যবহার করে এথেকে এমন ছবি (ভিআর) তৈরী করা যায় যা ড্রাগ করে ঘুরানো যায়।  মনে হবে আপনি থ্রিডি ছবি ঘুরিয়ে দেখছেন।
যেমন তেমনভাবে উঠানো ছবি যে ঠিকভাবে জোড়া দেয়া যায় না এটা বলে দেয়া প্রয়োজন নেই। আর তখনই প্রশ্ন ওঠে, ঠিক কিভাবে ছবি উঠালে একেবারে নিখুত প্যানোরামা পাওয়া যাবে। সেই বিষয়গুলিই উল্লেখ করা হচ্ছে এখানে।
.          ট্রাইপড ব্যবহার করুন। এবিষয়ে এরবেশি বলা প্রয়োজন নেই।
ট্রাইপড ছাড়া প্যানোরামা ছবি উঠাতে পারেন, সেক্ষেত্রে পাশাপাশি তো বটেই, ছবিগুলিকে ওপরে-নিচেও সমান করতে হবে।
.          ট্রাইপডকে ভুমির সমান্তরাল করুন। ভাল মানের প্রায় সব ট্রাইপডেই লেভেল কন্ট্রোলের ব্যবস্থা রয়েছে। পানির মত তরল (bubble) রয়েছে যা দেখে বোঝা যায় ট্রাইপড ঠিকভাবে রাখা হয়েছে কিনা।
.          ক্যামেরাকেও ভুমির সমান্তরাল রাখুন। অনেকে এজন্য ফ্লাশ হট-সুতে বাবল ব্যবহার করেন। ছোট শিশিতে পানি রেখে আপনি নিজেই এধরনের কিছু তৈরী করে নিতে পারেন।
.           প্রতিটি ফ্রেমের জন্য কতটুকু যায়গা ব্যবহার করবেন আগেই ঠিক করে নিন। ২০ থেকে ৩০ ভাগ যায়গা একটির ওপর আরেকটি (ওভারল্যাপিং) ব্যবহার করুন। নির্দিষ্ট কোন বস্তু দেখে বিষয়টি ঠিক করে নিতে পারেন। অর্থাত কোন একটি ফ্রেমের ডানদিকে ২৫ ভাগ দুরত্বে যে বস্তু থাকবে সেটা পরবর্তী ফ্রেমের বামদিকে ২৫ ভাগ দুরত্বে রাখুন।
.          মিটার দেখে নিন এরপর এক্সপোজার ঠিক করুন ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে। অটো কন্ট্রোল ব্যবহার করলে একেক ফ্রেমের এক্সপোজার একেক রকম হতে পারে।
.          হোয়াইট ব্যালান্স ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ঠিক করে নিন।
.          সবসময় বামদিকের ফ্রেম থেকে ছবি উঠানো শুরু করুন। কোথায় শুরু কোথায় শেষ নিশ্চিত করার জন্য শুরুতেই দুই প্রান্তের ছবি উঠিয়ে নিতে পারেন।
.          এদেরকে জোড়া দেয়ার সময়ও এভাবেই পরপর জোড়া দিন।