Friday, March 21, 2014

প্যানোরামা

আপনি নিশ্চয়ই এমন ছবি দেখেছেন যেখানে বিস্তৃত প্রান্তরের ছবি রয়েছে। আপনি কোথাও দাড়িয়ে মাথা ঘুরিয়ে চারিদিকে দৃষ্টি দিলে যেমন দেখা যায় তেমন। ফটোগ্রাফির ভাষায় এটাই প্যানোরামা। অবশ্যই আপনি একবারে বামদিক, সামনের দিক এবং ডানদিকের ছবি উঠাতে পারেন না। এদেরকে পৃথক পৃথকভাবেই উঠানো হয়, তারপর জোড়া লাগানো হয় (stitch) ফটোশপের মত কোন সফটঅয়্যার দিয়ে। কুইটটাইম এর মত সফটঅয়্যার ব্যবহার করে এথেকে এমন ছবি (ভিআর) তৈরী করা যায় যা ড্রাগ করে ঘুরানো যায়।  মনে হবে আপনি থ্রিডি ছবি ঘুরিয়ে দেখছেন।
যেমন তেমনভাবে উঠানো ছবি যে ঠিকভাবে জোড়া দেয়া যায় না এটা বলে দেয়া প্রয়োজন নেই। আর তখনই প্রশ্ন ওঠে, ঠিক কিভাবে ছবি উঠালে একেবারে নিখুত প্যানোরামা পাওয়া যাবে। সেই বিষয়গুলিই উল্লেখ করা হচ্ছে এখানে।
.          ট্রাইপড ব্যবহার করুন। এবিষয়ে এরবেশি বলা প্রয়োজন নেই।
ট্রাইপড ছাড়া প্যানোরামা ছবি উঠাতে পারেন, সেক্ষেত্রে পাশাপাশি তো বটেই, ছবিগুলিকে ওপরে-নিচেও সমান করতে হবে।
.          ট্রাইপডকে ভুমির সমান্তরাল করুন। ভাল মানের প্রায় সব ট্রাইপডেই লেভেল কন্ট্রোলের ব্যবস্থা রয়েছে। পানির মত তরল (bubble) রয়েছে যা দেখে বোঝা যায় ট্রাইপড ঠিকভাবে রাখা হয়েছে কিনা।
.          ক্যামেরাকেও ভুমির সমান্তরাল রাখুন। অনেকে এজন্য ফ্লাশ হট-সুতে বাবল ব্যবহার করেন। ছোট শিশিতে পানি রেখে আপনি নিজেই এধরনের কিছু তৈরী করে নিতে পারেন।
.           প্রতিটি ফ্রেমের জন্য কতটুকু যায়গা ব্যবহার করবেন আগেই ঠিক করে নিন। ২০ থেকে ৩০ ভাগ যায়গা একটির ওপর আরেকটি (ওভারল্যাপিং) ব্যবহার করুন। নির্দিষ্ট কোন বস্তু দেখে বিষয়টি ঠিক করে নিতে পারেন। অর্থাত কোন একটি ফ্রেমের ডানদিকে ২৫ ভাগ দুরত্বে যে বস্তু থাকবে সেটা পরবর্তী ফ্রেমের বামদিকে ২৫ ভাগ দুরত্বে রাখুন।
.          মিটার দেখে নিন এরপর এক্সপোজার ঠিক করুন ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে। অটো কন্ট্রোল ব্যবহার করলে একেক ফ্রেমের এক্সপোজার একেক রকম হতে পারে।
.          হোয়াইট ব্যালান্স ম্যানুয়েল পদ্ধতিতে ঠিক করে নিন।
.          সবসময় বামদিকের ফ্রেম থেকে ছবি উঠানো শুরু করুন। কোথায় শুরু কোথায় শেষ নিশ্চিত করার জন্য শুরুতেই দুই প্রান্তের ছবি উঠিয়ে নিতে পারেন।
.          এদেরকে জোড়া দেয়ার সময়ও এভাবেই পরপর জোড়া দিন।

জেপেগ বনাম র মোড

সাধারনভাবে প্রায় সব ক্যামেরাতেই ছবি সেভ হয় জেপেগ ফরম্যাটে। এর সুবিধে হচ্ছে এই ফাইলের জন্য কম যায়গা প্রয়োজন হয়, খুব সহজে যেকোন সফটঅয়্যারে সরাসরি ব্যবহার করা যায়। আর সমস্যার দিক হচ্ছে, এতে লস কম্প্রেসন ব্যবহার করা হয়। আপনি ফাইল সাইজ যত ছোট করবেন ছবির মান তত খারাপ হবে। যারা একেবারে নিখুত ছবি পেতে যান তাদের সমস্যা আরো গভীরে। সম্ভাব্য সবচেয়ে বড় ফাইলসাইজ ব্যবহার করে যা পাওয়া যায় তাতেও সন্তুষ্ট নন তারা। কারন,
মনে করুন সুর্যাস্তের ছবি উঠাচ্ছে। সরাসরি আলো ছাড়াও একধরনের আলোর আভা রয়েছে চারিদিকে। জেপেগ মোডে ছবি উঠানোর সময় সেন্সর সেগুলি ধারন করে। তারপর ক্যামেরার প্রসেসর যখন তাকে জেপেগ ফরম্যাটে কনভার্ট করে তখনই সেটা হারিয়ে যায়। আপনি খালিচোখে যতটা সুন্দর দেখেছেন ছবিতে সেটা পেলেন না।
এই সমস্যা সমাধানের জন্য ব্যবহার করা হয় র (Raw) ফরম্যাট। নাম থেকেই ধরে নিতে পারেন এটা আসলে কোন ইমেজ ফরম্যাট না। সেন্সরে যে তথ্য ধরা পড়ে তাকেই সেভ করে রেখে দেয়া।
র-মোডের সুবিধে হচ্ছে মুল দৃশ্যটি আপনি পাচ্ছেন ফাইল হিসেবে। এরপর আপনার পছন্দমত সেখানে পরিবর্তন করে নেবেন। যেহেতু সেখানে সব তথ্যই থেকে যায় সেহেতু কোনকিছু না হারিয়েই আলো-ছায়ার পরিবর্তন করার সুবিধে রয়েছে। কাজেই একেবারে নিখুত ছবি পাওয়া যাবে।
আর সমস্যার দিক হচ্ছে এরজন্য ফাইল সাইজ হয় অনেক বড়। মেমোরী কার্ডে অনেক বেশি যায়গা প্রয়োজন হয়। আর একে সরাসরি ব্যবহার করা যায় না। এই ফরম্যাট প্রতিটি ক্যামেরার জন্য মডেল ভিত্তিক। আপনাকে এমন সফটঅয়্যার ব্যবহার করতে হবে যে সেই ফরম্যাট ব্যবহার করে। আশার কথা হচ্ছে ক্যামেরা কেনার সময় র-কনভার্টার হিসেবে কোন সফটঅয়্যার দেয়া হয়। আর ইমেজ এডিটিং এর জনপ্রিয় সফটঅয়্যার এডবি লাইটরুম, ফটোশপ ইত্যাদিতে সব মডেলের র-ফরম্যাট ব্যবহারের ব্যবস্থা দেয়া হয়।
ফটোশপের পুরনো ভার্শনে র-ফরম্যাট ব্যবহারের জন্য এডবি ক্যামেরা র (Adobe Camera Raw) নামে একটি সফটঅয়্যার পৃথকভাবে ইনষ্টল করতে হত। ফটোশপ সিএস-৫ এর সাথে এটা নিজেই ইনষ্টল হয়। আপনি র-ফরম্যাটের ইমেজ ওপেন করার সময় নিজে থেকেই সেটা ওপেন হয়। মুল ইমেজের কোনরকম ক্ষতি না করে সব ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে সেখানে।

সেখানে কি কি পরিবর্তন করা যায় একবার দেখে নিন।
.          ফটোশপ ওপেন করুন এবং একটি র-ফরম্যাটের ছবি উঠানোর জন্য File – Open কমান্ড দিন।
.          নির্দিস্ট ফোল্ডার থেকে ফাইলটি সিলেক্ট করুন। ইমেজটি Camera Raw ব্যবহার করে ওপেন হবে।
.          এখানে White Balance, Temperature, Tint থেকে শুরু করে Exposure, Recovery, Fill Light, Blacks, Brightness, Contrast, Clarity, Vibrance, Saturation ইত্যাদি বিষয়ের পরিবর্তন করা যাবে স্লাইডার ব্যবহার করে। সাথেসাথে ছবিতে তার প্রিভিউ দেখা যাবে। কোন পরিবর্তনেই মুল ইমেজের কোনরকম পরিবর্তন হবে না বা ক্ষতির সম্ভাবনা থাকবে না।
.          পছন্দমত পরিবর্তন করার পর Open copy অথবা Done বাটনে ক্লিক করুন।

আপনার ক্যামেরা যদি র-ফরম্যাট সাপোর্ট করে (কমদামী ক্যামেরায় এই ব্যবস্থা নাও থাকতে পারে) তাহলে র-ফরম্যাটে ছবি উঠান। ছবি উঠানোর সময় সবধরনের সেটিং নিয়ে মাথা না ঘামিয়েই ভালমানের ছবি পাওয়া যাবে।
আর নতুন ক্যামেরা কেনার সময় সেটা র-ফরম্যাট সাপোর্ট করে কিনা জেনে নিন।

·        সবসময়ই নতুন নতুন মডেলের ক্যামেরা বাজারে আসছে। কাজেই কিছুটা পুরনো ভার্শনের সফটঅয়্যারে সেই মডেলের জন্য র-সাপোর্ট নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে তাদের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করে নিন।
·        এডবি ব্রিজ, এসিডিসি প্রো ইত্যাদি সফটঅয়্যারে র-ফরম্যাটের ইমেজ দেখার ব্যবস্থা রয়েছে।

ডেপথ অব ফিল্ড

ডেপথ অব ফিল্ড এমন একটি বিষয় যার ওপর ছবির সৌন্দর্য্য নির্ভর করে।
একথা আসলে ডেপথ অব ফিল্ড সম্পর্কে কোন উত্তর দেয় না। আসলেই ডেপথ অব ফিল্ড বিষয়টি পরিমাপ করার ব্যবস্থা নেই। সাধারনভাবে বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনি যখন ছবি ওঠান তখন কোন একটি বিন্দুতে ফোকাস করেন। সেই বিন্দুটি সবচেয়ে স্পষ্ট দেখা যায়। কোনকিছু সেই বিন্দু থেকে যতটা দুরে থাকবে তার ঝাপসা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তত বেশি। তবে এর পার্থক্য রয়েছে।
যেমন আপনি খুব কাছ থেকে একটি ফুলের ছবি উঠিয়েছেন, তার কয়েক ইঞ্চি দুরত্বের আরেকটি ফুল বা পাতা ঝাপসা দেখা যাচ্ছে। আবার আপনি খোলা মাঠে দুরের একটি কুড়েঘরের ছবি উঠিয়েছেন, তারথেকে বহুদুরের গাছপালা কিংবা আকাশ ঝাপসা হয়নি। এই দুই উদাহরন থেকে ডেপথ অব ফিল্ডের পরিচয় দিয়ে বলা যায়, প্রথম উদাহরনে ডেপথ অব ফিল্ড কম, পরের উদাহরনে ডেপথ অব ফিল্ড বেশি।
আপনি প্রশ্ন করতে পারেন কোনটি ভাল।
এর কোন সঠিক উত্তর নেই। আপনি যখন একটি ফুলের ওপর বসা প্রজাপতির ছবি উঠাবেন তখন আপনি চান শুধুমাত্র ফুল এবং প্রজাপতি স্পষ্ট দেখা যাক, এর বাইরের সবকিছু ঝাপসা থাকুক।  ঝাপসা বিষয়গুলি অষ্পষ্ট ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে মুল বিষয়কে আরো স্পষ্ট করে তোলে। কাজেই এক্ষেত্রে কম ডেপথ অব ফিল্ড ভাল।
আবার পরের উদাহরনের ক্ষেত্রে যদি আকাশ কিংবা দুরের গাছপালা ঝাপসা হয় তাহলে ছবি সম্পুর্ন মনে হবে না। সেক্ষেত্রে বেশি ডেপথ অব ফিল্ড সুবিধেজনক। অবশ্য ল্যান্ডস্কেপের ক্ষেত্রেও ডেপথ অব ফিল্ড কমিয়ে ভিন্নধরনের ছবি পেতে পারেন।
কাজেই আপনি ডেপথ অব ফিল্ড কম নাকি বেশি ব্যবহার করবেন এর কোন ধরাবাধা নিয়ম নেই। ছবির বিষয়ের দিকে দৃষ্টি দিয়ে আপনাকেই ঠিক করে নিতে হবে আপনি কি চান।

এপারচার এবং ডেপথ অব ফিল্ড
আপনি ডেপথ অব ফিল্ড বেশি চান অথবা কম চান, সেটা ঠিক করবেন কিভাবে ?
সবচেয়ে সহজ উপায় এপারচার পরিবর্তন করা। এপারচার যত ছোট (মান বেশি) ডেপথ অব ফিল্ড তত বেশি। অনেকে নির্দিষ্ট করে বলেন ল্যান্ডস্কেপের জন্য এফ/২২ ব্যবহার করার কথা। কম ডেপথ অব ফিল্ডের জন্য ব্যবহার করবেন এফ/৫.৬ কিংবা আরো বেশি (সংখ্যায় কম)।

লেন্স এবং ডেপথ অব ফিল্ড
লেন্সের ফোকাল লেন্থ প্রভাব ফেলে ডেপথ অব ফিল্ডের ওপর। ফোকাল লেন্থ যত কম হবে ডেপথ অব ফিল্ড তত বেশি হবে। যেমন ৫৫ মিমি লেন্সে এফ/৮ এপারচারে যে ডেপথ অব ফিল্ড পাওয়া যাবে একই এপারচারে ২০০ মিমি লেন্সে পাওয়া যাবে তারথেকে অনেক কম। যে কারনে কম ফোকাল লেন্থের লেন্সগুলি ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফির জন্য বেশি উপযোগি।

দুরত্ব এবং ডেপথ অব ফিল্ড
ক্যামেরা থেকে বিষয়ের দুরত্ব যত বেশি ডেপথ অব ফিল্ড তত বেশি। একটি ফুলের একেবারে কাছে থেকে ছবি উঠালে আপনি যেমন একেবারে কম ডেপথ অব ফিল্ড পাবেন, দুর থেকে উঠালে সেটা পাবেন না।

কাজেই ভাল ছবি উঠানোর জন্য ডেপথ অব ফিল্ড বিষয়টির দিকে দৃষ্টি দিন। একই ছবি ভিন্ন ভিন্ন সেটিংএ উঠিয়ে সেগুলি পর্যবেক্ষন করুন। একসময় ঠিক যেমনটি চান তেমনটিই পাবেন।

ফ্লাশ কখন ব্যবহার করবেন না

মনে হতে পারে এটা অদ্ভুত প্রশ্ন। আলো থাকলে সেখানে ফ্লাশ প্রয়োজন নেই। আলো কম থাকলে ফ্লাশ ব্যবহার করতে হবে। ঘরের মধ্যে ছবি উঠানোর সময় ফ্লাশ ব্যবহার করতে হবে। ফটোগ্রাফি আলো পছন্দ করে। যত বেশি আলো তত ভাল ছবি।
মানুষ ফ্লাশ থেকে যতটা ভাল ফল আশা করে ফ্লাশ ব্যবহারের কারনে অনেক সময়ই ফল হয় ঠিক বিপরীত। কখনো একেবারে সাদা, কখনো কোন কোন যায়গা ঝলসে যাওয়া, কখনো গাঢ় ছায়া। খালিচোখে যা দেখে ছবি উঠিয়েছেন তার ধারেকাছেও না।
আপনি কাছ থেকে ছবি উঠাবেন, ছবি ঝলসে যাবে। ফ্লাশের আলো কজ করবে ১০ ফুট পর্যন্ত। ফল হিসেবে কাছের সবকিছু উজ্বল আর তার পেছনেই হঠাত করে অন্ধকার। আবার ছোট ক্যামেরার ফ্লাশ থেকে তৈরী হয় ভৌতিক সিনেমার মত লাল চোখ (রেড আই)। বিষয়কে আরো জটিল করে তুলেছে অনেক আধুনিক ক্যামেরা। ক্যামেরা নিজেই ধরে নেয় ফ্লাশ প্রয়োজন, সেটা নিজে থেকেই অন হয় এবং নিজে থেকেই জ্বলে। কোন কোন ক্যামেরায় ইচ্ছে করেও বন্ধ রাখা যায় না।
ফ্লাশের অনেক দুর্নাম করা হল। ফ্লাশ অবশ্যই প্রয়োজন হয়। কোনসময় ফ্লাশ ব্যবহার করবেন না সেটা আগে জেনে নিন;
.          ১০ ফুটের বেশি দুরত্বের ছবি উঠানোর সময় ফ্লাশ ব্যবহার করবেন না। এতে মানুষ বিরক্ত হবে, ব্যাটারীর শক্তি খরচ হবে, ছবিতে ফ্লাশের প্রভাব পাওয়া যাবে না। আপনি খেলার সময় ষ্টেডিয়ামে কিং কনসার্টের সময় হয়ত বহু ফ্লাশ জ্বলতে দেখেছেন। এরসাথে ছবি উঠানোর কোন সম্পর্ক নেই। শুধুমাত্র ফ্লাশ জ্বালানোর জন্যই জ্বালানো হয়। অনেকেই হয়থ জানে ফ্লাশ জ্বালালে কোন লাভ নেই কিন্তু কিভাবে ফ্লাশ বন্ধ রাখতে হয় জানে না।
.          মনে হতে পারে ঘরের মধ্যে ছবি উঠানোর জন্য ফ্লাশ জরুরী। বেশি আলো পাবার জন্য বেশি এপারচার, কম সাটারস্পিড, বেশি আইএসও ব্যবহার করলে গতিশীল বিষয়ের ঝাপসা ছবি পেতে পারেন। তারপরও, সেটা বাস্তবসম্মত। ফ্লাশ ব্যবহার করলে চলন্ত পাখাকে মনে হবে থেমে আছে। তাকে নিশ্চয়ই ভাল ছবি বলে না।

ফ্লাশ কখন ব্যবহার করবেন
.          শুনে হয়ত বিষ্মিত হতে পারেন, ফ্লাশ ব্যবহার করবেন উজ্জল রৌদ্রের মধ্যে ছবি উঠানোর সময়। কারন, রৌদ্রে দাড়ানো মানুষের ছবি উঠানোর সময় যে যায়গাগুলিতে ছায়ার কারনে অন্ধকার দেখায় সেই যায়গাগুলি আলোকিত করবে ফ্লাশ।
.          যেখানে অসম আলো রয়েছে সেখানে ফ্লাশ ব্যবহার করে ভাল ফল পাবেন।
.          কখনো কখনো অবশ্যই আপনি অল্প আলোর মধ্যেই বেশি সাটারস্পিড ব্যবহার করতে চান। সেখানে ফ্লাশ ব্যবহার করুন।

ফ্লাশ সম্পর্কে এই বক্তব্য অবশ্য বিল্ট-ইন ফ্লাশের জন্য কার্যকর। এসএলআর ক্যামেরার জন্য পৃথক ফ্লাশগুলিতে বহু ধরনের কন্ট্রোল রয়েছে। রিমোট ফ্লাশ ব্যবহারের সময় তিনদিকে ৩টি ফ্লাশ রেখে ছবি উঠাতে পারেন। ছবি উঠানোর সময় ৩টি ফ্লাশ সময়মত জ্বলে উঠবে। কোন কোন ফ্লাশে রেড-আই বাদ দেয়ার ব্যবস্থা রয়েছে। সেগুলোকে এই হিসেবে আনবেন না।
এমনকি অনেক বিল্টইন ফ্লাশেও আলো কমবেশি করার ব্যবস্থা রয়েছে। ৩ ফুট দুরত্বে যে সেটিং ব্যবহার করবেন ৮ ফুট দুরত্বের জন্য ভিন্ন সেটিং ব্যবহার করবেন। ফিল ফ্লাশ, স্লো সিংক ইত্যাদি সেটিং রয়েছে।
ফ্লাশ কিভাবে বন্ধ রাখা যায়, কিংবা আলো কমবেশি করা যায় বিষয়টি নির্দিষ্ট ক্যামেরার ওপর নির্ভরশীল। জানার জন্য ক্যামেরার ম্যানুয়েল দেখে নিন।
শেষকথা হচ্ছে, আরো কম কাজেই ফ্লাশ ব্যবহার করতে হবে এটা ধরে নেবেন না। বরং অধিকাংশ ছবি ফ্লাশ ছাড়াই উঠাতে চেষ্টা করুন। আর ফ্লাশ যখন ব্যবহার করবেনই তখন তাকে শুধুমাত্র আলো জ্বলার যন্ত্র ধরে নেবেন না।আরো যে বিষয়গুলি আছে সেগুলি জেনে নিন।

টুকিটাকি


ডিসক্লেইমার: প্রথমেই একটা জিনিস ক্লিয়ার করে রাখা ভালো. আমি মোটেও কোনো ফটোগ্রাফার নই. মাঝে মাঝে টুকটাক কিছু ছবি তুলি, এই যা. আমার মূল আগ্রহ হচ্ছে ম্যানিপুলেটিভ/ট্রিক ফটোগ্রাফি আর ম্যাক্রো ফটোগ্রাফি কারণ এইগুলান অনেক সহজ. তবে একটা কথা অস্বিকার করার কোনো উপায় নেই আর তা হচ্ছে যে ফটোগ্রাফি সস্তা না. বেশ ভালো রকম খরচ আছে. আর আমার তিনটা যে প্রধান শখ, মাছ ধরা, সিনেমা আর ফটোগ্রাফি, আল্লায় দিলে সবগুলাই এক্সপেন্সিভ. শখও পুরাইতে মন চায় আবার টাকাও নাই, তাই কি আর করা, খুইজা পাইতা কয়েকটা উপায় পাইছি কিছু টাকা বাচানোর. এই সিরিজে আমি মূলত সেটাই তুলে ধরার চেষ্টা করব. আর কেউ যদি অন্য কোনো উপায় জেনে থাকেন, জানাবেন, এড করে দেব নে মূল পোস্টএর সাথে.
ভুমিকা: সেদিন দেখলাম অর্বাচীন স্বাপ্নিক ভাই চমত্কার একটা সিরিজ লিখলেন যেখানে ক্যামেরার অনেক জটিল খুটিনাটি বিষয় তিনি খুব সহজে ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন. ঐটা দেখেই আমার এই পোস্টএর কথা মনে হলো. আমি এখানে যেটা করব, তা হচ্ছে ক্যামেরার বেসিক তিনটা জিনিসকে হালকা ভাবে তুলে ধরব, তারপরে আসল কথায় যাব. আমি অতটা ডিটেলসএ যাব না যেহেতু স্বাপ্নিক ভাই সেটা অলরেডি করে রাখছেন. যাই হোক, আসল কথায় আসি. কেন আমি সরাসরি আমার পোস্টএর বিষয়বস্তুতে যাচ্ছি না সেটা যখন আসল প্রসঙ্গে যাব, তখন বুঝতে পারবেন. তখন এই বেসিক টার্ম ব্যবহার করব আর এগুলো আগে থেকে জেনে রাখলে বুঝতে একটু সুবিধে হবে. তখন ব্যাপারটা ধরতে সুবিধে হবে সবার.
আমি এখানে শুধুই এসএলআর ক্যামেরার কথা বলব. ফিল্ম ক্যামেরার ব্যাপারে আমার কোনো ধারনাই নাই, কখনো ব্যবহার করা তো দুরের কথা. যেই তিনটে জিনিস মানুষের জানা মোটামুটি সহজ আর জরুরি একইসাথে, সেই তিনটে হচ্ছে শাটার স্পিড, এপারচার/ডেপ্ত অফ ফিল্ড এবং আইএসও.
শাটার স্পিড- এটা হচ্ছে অনেকটা জানালার পাল্লা. প্রতিটা ক্যামেরাতেই যখন আপনি ছবি তোলার জন্যে বোতামে চাপ দিবেন, তখন ক্লিক করে একটা শব্দ হয় আর আমরা বুঝতে পারি যে ছবি তোলা হয়ে গেছে. এটাই হচ্ছে শাটার. সাধারণ ক্যামেরাতে এটা কন্ট্রোল করার কোনো উপায় থাকে না. কিন্তু এসএলআর ক্যামেরাগুলোর দাম এত বেশি এই কারণেই যে এটাতে ব্যবহারকারীর হাতেই সব কন্ট্রোল থাকে. কল্পনা করুন যে একটা রুমে আপনি বসে আছেন, এবং আপনার সামনে জানালা আর সেই জানালা দিয়ে বাইরে দেখা যায়. যদি কেউ এক সেকেন্ডএর জন্যে সেই জানালা খুলে দেয়, তাহলে আপনি এক সেকেন্ডএর মধ্যে বাইরে যা যা হয়, তার সব দেখতে পাবেন. আর যদি কেউ ৫ সেকেন্ড খোলা রাখে, তাহলে সেই পরিমান দেখতে পাবেন. শাটার ব্যাপারটাও তাই. ক্যামেরার বডিতে একটা পাল্লা থাকে, সেটা ঝট করে খুলে আবার বন্ধ হয়ে যায় আর ছবিটা তোলা হয়ে যায়. আপনি ইচ্ছে করলে খুব দ্রুত কাজটা সারতে পারেন, আবার ধীরে ধীরেও সারতে পারেন. পার্থক্য হচ্ছে, যত লম্বা সময় শাটার খোলা থাকবে, আপনার ছবিতে আলোর পরিমান তত বেশি বাড়বে. আর যত তারাতারি বন্ধ করবেন, তত কম আলো প্রবেশ করবে. ধরুন, আপনি দিনের বেলায় উজ্জল সুর্যের আলোয় কারো ছবি তুলছেন, তখন আপনাকে না চাইলেও শাটার স্পিডএর খুব দ্রুত রাখতে হবে. না হলে আপনার ছবি ঝলসে যাবে. আবার সন্ধার সময়ে বা রাতে আপনার শাটার স্পিড হতে হবে স্লো না হলে আপনার ছবি হবে অন্ধকার. এখানে আরো একটা জিনিস আপনাকে মনে রাখতে হবে. যত ফাস্ট শাটার স্পিড, তত বেশি সাবজেক্টএর গতি কমে আসবে, যেমন চলন্ত গাড়ির ছবি তুলতে পারবেন ফাস্ট শাটার স্পিড দিয়ে যেখানে দেখলে মনে হবে রাস্তার সব গাড়ি দাড়িয়ে আছে আপনার জন্যে. কিন্তু আসলে ওই গাড়ি প্রতি সেকেন্ডএ যত স্পিডএ যাচ্ছিল, আপনি তার থেকেও ফাস্ট শাটার স্পিড ব্যবহার করাতে ঐটা হয়েছে. একই কথা খাটে উল্টো বেলাতেও. যত স্লো থাকবে স্পিড, তত বেশি মনে হবে যে ছবি তোলার সময়ে সাবজেক্ট আউট অফ ফোকাস কারণ আপনার সাবজেক্ট আপনার শাটার স্পিডএর থেকে বেশি স্পিডএ নড়ছে. একটা উদাহরণ দিলেই বুঝবেন.
এই ছবিটা দেখুন. এটা আমার তোলা না, গুগল থেকে ধার নিছি. প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি, শাটার স্পিডকে বর্ণনা করা হয় সাধারণত এক সেকেন্ডএর কতভাগ সেই অনুযায়ী. যেমন এক সেকেন্ডএর ১০০ভাগএর এক ভাগ হচ্ছে ১/১০০ s. আমি ঠিক শিওর না শাটার স্পিড কোনটাতে কত, কিন্তু প্রথমটাতে ব্যবহার করা হয়েছে সবথেকে দ্রুত, আর তাই দেখে মনে হচ্ছে ঘূর্ণিটা থেমে আছে আর দ্বিতীয়টাতে শাটারএর স্পিড একটু কমানো আর তাই ওরকম দেখাচ্ছে আর তৃতীয়টাতে সবথেকে স্লো.
এপারচার/ডেপ্ত অফ ফিল্ড- প্রতিটা লেন্সএ একটা দেয়াল থাকে যেটার ভেতরে গর্ত করা থাকে. ছবি তোলার সময়ে সাধারণত আলো প্রথমে এই গর্ত পার হয়ে তারপরে শাটারএ যায়. স্বাভাবিকভাবেই প্রতিটা ক্যামেরার শাটার স্পিড ম্যাক্সিমাম আর মিনিমাম বদলে না যেহেতু সেটা ক্যামেরার বডিতে থাকে. কিন্তু এপারচার যেহেতু লেন্সএ থাকে, তাই একেক লেন্সএ একেক রকম থাকে এটা. এই এপারচার নাম্বার বলা হয় সাধারণত f নাম্বার দিয়ে. নাম্বারটা যত বড় হয়, তার মানে হচ্ছে গর্তটার পরিধি তত ছোট হয় আলো প্রবেশ করার জন্যে, আর নাম্বারটা যত ছোট হয়, গর্তের পরিধি বেড়ে যায় সেই অনুসারে আর আলো প্রবেশ করতেও পারে তত বেশি. লেন্সএর প্রকারভেদএ নির্ণয় হয় কোন লেন্সএর কত সর্বনিম্ব/সর্বোচ্চ ক্ষমতা. এমনিতে সর্বনিম্ন হয় ১.৪ থেকে আর বাড়তে বাড়তে সেটা যেতে পারে ৭২ পর্যন্ত.
প্রথম ছবিটা লক্ষ্য করুন, ঐযে কালোর ভেতরে ছোট্ট একটা সাদা সার্কল দেখতে পাচ্ছেন, এই লেন্স তখন সেট করা ছিল খুব সম্ভব f-১১ অথবা f-১২তে. ওই লেন্স যদি ওই অবস্থায় আমার ক্যামেরায় সেট করা থাকত, আমার শাটার স্পিড যাই হোক না কেন, আলোকে আগে ওই গর্ত দিয়েই প্রবেশ করতে হবে, তারপরে আমার শাটারএ গিয়ে ধাক্কা দেবে. এরপরের ছবিটাতে দেখুন গর্ত অনেক বড় আর তার মানে আলো এখানে অনেক বেশি প্রবেশ করার জায়গা পাবে. এখানে দ্বিতীয় ছবিটাতে দেখুন যে ওই সাদা বৃত্ত অনেকখানি খোলা. আলো প্রবেশ করার জন্যে অঢেল জায়গা. এখানে আমি আমার লেন্সএর যে ম্যাক্সিমাম ক্ষমতা, সেটাই প্রয়োগ করেছিলাম. আমার লেন্সএর ম্যাক্সিমাম হচ্ছে f-১.৮. এবং আমি যতদুর জানি, ১.৪ও আছে. আর তৃতীয় ছবিতে ওই বৃত্তের ব্যাসার্ধ সবথেকে কম. এখানে আমি আমার ব্যবহার করেছি f-২২. আমার এমন লেন্সও আছে যেটাতে আমি f-৬৪ পর্যন্ত যেতে পারি. এখন কল্পনা করুন যে আলো প্রবেশ করার জন্যে কত কষ্ট. বেশির ভাগ সময়েই সাধারণত মানুষ ব্যবহার করে ম্যাক্সিমাম f-১৫-f-১৬. এর উপরে যাওয়া লাগে না তেমন একটা. তবে অনেকে ব্যবহার করে বিশেষ উদ্দেশ্য যদি থাকে, তখন.
একটা প্রশ্ন জাগতে পারে মনে যে এপারচার তো না হয় বুঝলাম, কিন্তু ডেপ্ত অফ ফিল্ডটা আবার কি জিনিস. ওয়েল, আপনার সাবজেক্টএর আশেপাশে, সামনে পিছনে যা আছে, তার কতখানি আপনি ফোকাসএ রাখতে চান, তাকেই বলে ডেপ্ত অফ ফিল্ড. এটা হতে পারে খুবই শ্যালো বা খুবই হাই ডেপ্ত অফ ফিল্ড. যেমন ধরুন, সব থেকে শ্যালো হচ্ছে সব থেকে নিম্ন নাম্বার. যদি আমি ব্যবহার করি ১.৪, তাহলে আমার সাবজেক্টএর কিছু অংশ ছাড়া আর বাকি সব, সামনে, পেছনে, ডানে, বায়ে সব ঝাপসা থাকবে. ফলে যে ওই ফটো দেখবে, তাকে আমি বাধ্য করছি তার সমস্ত মনোযোগ শুধুই আমার সাবজেক্টএর উপরে রাখতে. কখন কোথায় কি ভাবে কি করবেন, সেটা সম্পূর্ণই নির্ভর করে আপনার উপরে.
তৃতীয় ছবিটা ছিল f-৩২ এ তোলা. যার ফলে, মোটামুটি সব কিছুই ফোকাসে এসেছে. মাঝামাঝিটা হচ্ছে আইডিয়াল নাম্বারে তোলা, f-১১. যদিও স্পেসিফিক কোনো নাম্বার নেই পারফেক্ট হিসেবে তবে এমন যদি হয় যে আপনি গ্রুপ ফটো তুলছেন, তাহলে ১১-১৬ এর মধ্যে থাকলেই হবে. এর বেশি গেলে আবার গর্ত বেশি ছোট হয়ে যায়, তখন আবার আলো প্রবেশ করতে পারে কিনা যথেষ্ঠ, সেই টেনশন আসে. আর প্রথম ছবিটা দেখুন. এটা তোলা হয়েছে ১.৮ দিয়ে. এবার পার্থক্যটা বুঝতে একটু সুবিধে হবে আপনার.
আইএসও- এটা তেমন একটা জরুরি না বিগিনারদের জন্যে. এটা একটু কম্পলিকেটেড. আমি নিজেও এটা নিয়ে খুব একটা ঘুতাঘুতি করি না. বেসিকলি এটা হচ্ছে আপনার ছবি আলোর প্রতি কতখানি সংবেদনশীল, তা. এর নাম্বার শুরু হয় সাধারণত ১০০ থেকে আর বাড়তে বাড়তে হতে পারে ২০০০ বা তারও বেশি. আমি আমারটা সাধারণত ২০০তে দিয়ে রাখি, কখনো বদলায় না.
এখানে তুলনা করে দেখুন দুই ছবি. গুগল থেকে মারা. খেয়াল করে দেখুন যে দ্বিতীয় ছবিটাতে অনেক ছোট ছোট সাদা সাদা দাগএর মতন. এই হচ্ছে আইএসও. অন্ধকারএ ছবি তলার সময়ে এই আইএসও নাম্বার বাড়ালে উপকার হয়, কিন্তু এগেইন, আমি নিজে এইটা নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামাই না, বুঝিও না. আপনারা যারা এটা নিয়ে আরো ভালোভাবে জানতে চান, গুগলএ গিয়ে এটা লিখে সার্চ দিলেই অনেক কিছু পেয়ে যাবেন.
এতক্ষণ অনেক গ্যাজাইলাম ব্যাকগ্রাউন্ড নিয়া. সামনের পর্বে কিছু বেসিক আইডিয়া দেব ক্যামনে কিপটামি করা যায়.